Sunday, February 23, 2014

সমস্ত বিবাহিত ভাইদের জন্য: স্ত্রী কে ভালবাসুন…................




Please browse this related linkস্বামী স্ত্রীর অধিকার

Saturday, February 22, 2014

আল-জাজিরায় প্রতিবেদন: বাংলাদেশের রিকশাচালকের হাসপাতাল

আল-জাজিরায় প্রতিবেদন: বাংলাদেশের রিকশাচালকের হাসপাতাল



ডেসটিনি ডেস্ক: সাধারণত বিত্তশালীরা সবাজসেবায় এগিয়ে আসেন। 'নুন আনতে পান্তা ফুরায়'_ এমন পরিবারের কেউ ইচ্ছা করলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হয় না। এমন একটি অসম্ভব কাজকে সম্ভবে পরিণত করেছেন জয়নাল আবেদীন নামে দেশের এক রিকশাচালক। তিল তিল করে অর্থ সঞ্চয় করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি হাসপাতাল। সম্প্রতি আল-জাজিরায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, ৬১ বছর বয়সী এ রিকশা চালক ৩০ বছর যাবৎ প্রতিদিন ৬ ডলার পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে একটি ছোট হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। প্রত্যন্ত এলাকার তানহাশাদিয়া নামক একটি গ্রামে তিনি ওই মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিদিন ওই হাসপাতালে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে ওই প্রতিবেদনে নির্মিত হাসপাতালের স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ বেশিরভাগ চিকিৎসকই শহরে থেকে কাজ করেন। পল্লী এলাকার মানুষদের জন্য এতদূরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে রিকশা চালক জয়নালের হাসপাতাল গ্রামের মানুষদের যে বড় উপকারে আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ মহতী উদ্যোগের কারণে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জয়নালকে একজন মহান জাতীয় ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরা অনলাইনের।



রিকশাচালক জয়নালের স্বপ্নেরমমতাজ হাসপাতাল

মো. কামরুজ্জামান তুহিন:: ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. দূরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল টান হাঁসাদিয়া গ্রামে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জয়নাল আবেদীনের বৃদ্ধ পিতা আবদুল গনি এক রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাশের সিরতা বাজারের একমাত্র ওষুধের দোকান থেকেও ওষুধ পাওয়া যায় নি। কাঠের তক্তায় বাঁশ বেঁধে ভাইদের সহযোগিতায় অসুস্থ বাবাকে কিছু দূর নেয়ার পর তিনি মারা যান। বিনা চিকিৎসায় বাবার এমন মৃত্যু বিশ বছরের যুবক জয়নাল মেনে নিতে পারেননি। গ্রামের মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখেন হাসপাতাল গড়ার। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন অর্থ আর শিক্ষার। এর কোনোটাই তার নেই। ভূমিহীন কৃষক মো. আবদুল গনির চার ছেলে পাঁচ মেয়ের মধ্যে মো. জয়নাল আবেদীন সবার বড়। অভাবের সংসারে কারোরই লেখাপড়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। অনেক ভেবে নিজ মনে শপথ নেন ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল করার মতো অর্থ নিয়ে আবার বাড়ি িরবেন। অন্যথায় আর কোনো দিন বাড়ি ফিরবেন না- এমন প্রত্যয় নিয়ে কাউকে কিছু না বলে স্ত্রী শিশুকন্যা মমতাজকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন জয়নাল আবেদীন।
প্রায় ২৮ বছর রিকশা চালিয়ে জমানো পৌনে তিন লাখ টাকা নিয়ে তিনি আবার ফিরে আসেন তার গ্রামের বাড়িতে। ২০০১ সালের এক শুক্রবার সকালে গ্রামের মানুষকে ডেকে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য তার স্বপ্নের মমতাজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা জানান। গ্রামের সবাই তার কথা শুনে সে সময় হাসাহাসি করে। এমন কথা শুনে হাসি থামাতে পারেনি তার পরিবারের সদস্য, স্ত্রী ছেলেমেয়েও। সবাই ভাবল দীর্ঘদিন রিকশা চালিয়ে জয়নাল আবেদীনের মাথাটাই বুঝি গেছে। শুধু তাই নয়, নিয়ে অনেকেই অবজ্ঞা করেছে, অপমানও করেছে তাকে।
সে সময় সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলেও পাশের গ্রামের যুবক পল্লী চিকিৎসক মো. আলী হোসেন তার পাশে এসে দাঁড়ান। অনেক কষ্টে জমানো টাকায় ২৪ শতক জমি কিনে ২০০১ সালে ছোট একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর তৈরি করে জয়নাল আবেদীন মেয়ের নামে চালু করলেন মমতাজ হাসপাতালের কার্যক্রম। যেখানে প্রতিদিন অসুস্থ মানুষদের বিনামূল্যে সকাল-বিকেল চিকিৎসা করা শুরু করেন পল্লী চিকিৎসক মো. আলী হোসেন। শুধু তাই নয়, রোগীদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধও লে দেন জয়নাল আবেদীন।
সে থেকে পথচলা শুরু মমতাজ হাসপাতালের। কিন্তু রোগীদের ওষুধ কেনার জন্য প্রয়োজন অর্থ। কে পাশে দাঁড়াবে আর না দাঁড়াবে তার জন্য বসে থাকেননি জয়নাল। নিজের দেহঘড়ি যতক্ষণ চালু আছে ততক্ষণ হাসপাতাল চলবে- এমন প্রত্যয়ে তাই বয়স ষাট পেরিয়ে গেলেও জীরণকায় শরীর নিয়ে তিনি সারা সপ্তাহ ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাতেন। আর কষ্টার্জিত সব অর্থ দিয়ে হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন ওষুধ কিনে আবার বাড়ি ফিরতেন জয়নাল আবেদীন।
তার এমন কর্ম দেখে যারা তাকে এতদিন পাগল ভেবে এসেছিল, বিভিন্ন সময় কটূক্তি আর অপমান করেছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে শুরু করে। সে সময় গড়ে প্রতিদিন গ্রামের দরিদ্র ৩০-৪০ জন মানুষ  হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ওষুধ পেতে থাকে। এসব দেখে জয়নালকে পাগল না ভেবে তারা ধীরে ধীরে বন্ধু ভাবা শুরু করে। পরিবর্তন আসে পরিবারের সদস্যদের মাঝেও। স্ত্রী মোছা. লালবানু, ছেলজাহিদ হাসান, ছেলের বউ, নাতনি ভাইবোন সবাই তখন তার পাশে এসে দাঁড়ান।
সহযোগিতা চাইতে গিয়ে আরেক অপমানের ফসল বিদ্যালয়। তিনি জানান, ২০০৬ সালে ৎকালীন সমাজকল্যাণ সচিব আমাকে হাসপাতালের জন্য বিশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সে টাকায় গ্রামের দরিদ্র শিশুদের মক্তব পড়ার জন হাসপাতালের পাশে একটি টিনের দোচালা ঘর তুলে মক্তব পড়ানোর ব্যবস্থা করি। গত ২০০৭ সালে মক্তবের জন্য এক ব্যাংকে (ডাচ্-বাংলা) আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলাম। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর এক কর্মকর্তা বেরিয়ে এসে আবেদন চান। আমি লেখাপড়া জানি না জানিয়ে আবেদন লিখে দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি আমাকে অপমান করে বলেন, নিজে লেখাপড়া জানে না আবার এসেছেন লেখাপড়ার সাহায্য নিতে। খালি হাতে বাড়ি ফিরলেও সেদিন আরেক শপথ নিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় গণশিক্ষার স্কুলে ভর্তি হয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যে নাম স্বাক্ষর করতে শিখি। আর শপথ করি যেভাবেই হোক আমার মতো আমার গ্রামের আর কেউ যেন নিরক্ষর না থাকে তার জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলব। তারপর থেকে শুরু করি প্রাথমিক বিদ্যালয় মক্তবের কাজ। সকালে মক্তব পড়ানোর পর সকাল দশটা থেকে ৩টা পর্যন্ত প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার পাঠদান শুরু করি।
২০১১ সালে পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদনের পর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সংগঠন তার পাশে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক সহযোগিতায় হাসপাতালের নামে প্রায় চার একর ফসলি জমি কেনা হয়েছে। নতুন ঘর তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি গরুর খামার। হাসপাতালে বিদ্যু সংযোগ আনা হয়েছে।
শুরু থেকেই পল্লী চিকিৎসক মো. আলী হোসেন শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী দেখছেন। মো. আলী হোসেন জানান, সে সময় জয়নাল কাকা আমার কাছে আসেন সহযোগিতার জন্য। তার এমন নিঃস্বার্থ উদ্দেশ্যটি আমার ভালো লাগে। আমি পাশে দাঁড়াই। নিয়ে গ্রামের মানুষজন কেবল তাকে নয়, আমাকেও নানারকম টিট্কারি মারত, হাসাহাসি করত। আমাকে শুনিয়ে বলত, জয়নালের হাসপাতালে চাকরি করে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন রোগী আসেন। বেশিরভাগ রোগিকেই সাধ্যমতো সাধারণ ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় এক-দেড় হাজার টাকার ওষুধ লাগে। প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ বাড়ছে বিধায় ব্যয় নির্বাহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
জয়নাল আবেদীন জানান, ২০০৫ সালে আমেরিকা প্রবাসী শাহনাজ পারভীন নামে এক মহিলা এক হাজার ডলার হাসপাতালের উন্নয়নে তাকে সহযোগিতা দেন। সে টাকায় হাসপাতালের জন্য আরো একটি ঘর, কিছু আসবাবপত্র একটি ছোট পুকুর খনন করি। জয়নালের ছেলে জাহিদ হাসান জানান, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটি পরিদর্শনে এসেছেন বর্তমান মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্ট (অব.) মজিবর রহমান ফকিরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অগণিত ব্যক্তিবর্গ। নাম প্রকাশে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক অসংখ্য মানুষের আর্থিক সহযোগিতা আর ভালোবাসায় বর্তমানে হাসপাতাল বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে সুন্দরভাবে। এলাকার মানুষও আজ আমাদের পরিবার তথা বাবার স্বপ্নের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। মন্ত্রী মহোদয়দের নির্দেশে হাসপাতালটির সঙ্গে পাকা সড়কের সংযোগের দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের পাকাকরণের জন্যও মাপঝোঁক হয়েছে। আর বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য সরকারি বইও পাওয়া যাচ্ছে।
পার্শ্ববর্তী হইল্লামাড়ি গ্রামের বৃদ্ধা আমেনা খাতুন বলেন, চাইর-পাঁচ মাইল দূরে শরীর খারাপ লইয়া আইট্টা পরানগঞ্জ হাসপাতালে যাইতেই সারা। এহানে আইসা উপহার পাই, তাই আই। পাশের গ্রামের মেগজান বিবি, ময়না খাতুন, হাজেরা খাতুন খাদন মিয়া সবাই এক সুরে বলেন, জয়নাল আমরার গরিবের বন্ধু। গ্রামের আর কেউ তো এমনে আমরার কাছে আয় না।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক ডা. মতিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় উদ্যোগ বিরল। এসব ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
রিকশাচালক জয়নাল আবেদীন তার প্রাপ্তি সম্পর্কে বলেন, আমার এই শেষ বয়সে তেমন কিছু চাওয়ার নেই। এলাকার মানুষ যে এখানে আসেনÑ এটাই আমার বড় পাওয়া। হয়তো জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারব না এখানে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল বিদ্যালয় হয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, কোনো এক সময় আমার স্বপ্ন সাধারণ মানুষের স্বপ্নে রূপ বে।
মো. কামরুজ্জামান তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

Please See www.aljazeera.com's Video:


Please browse this related blog-sitehttp://freetreatmentbd.blogspot.com/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গাছ পাগল মাওলা মিয়াকে নিয়ে দিগন্ত টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন।



ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষ রোপন

- নাজিল আযামী


বিশেষ অংশ: বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যদিক গুরুত্বারোপ করে রাসূল (সাঃ) বলেছেন- যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তে তোমাদের কারও হাতে একটি চারা গাছ থাকে তাহলে সে যেন সেই বিপদ সংকুল মহূর্তেও তা রোপণ করে যায় (আদাবুল মুফরাদ)।

সম্পূর্ণ আলোচনা: আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাঝে না রেখে সামাজিক উন্নয়নেও প্রয়োগ করবো এমন বাসনা মনে রাখছি। পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগি রাখার জন্য বৃক্ষের ভুমিকা ব্যাপক। ইসলামে এ ব্যাপারে স্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।


আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি অপূর্ব সৌন্দর্য জীবের মধ্যে গাছ একটি জীব। গাছ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জীব, যা ছাড়া বেঁচে থাকার কোন উপায় নেই। গাছ থেকে পাওয়া অক্সিজেন আমাদের জীবন ধারণের জন্য এক অপরিহার্য। গাছ যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বিরাজ করছে তেমনি আবার পরিবেশ সংরক্ষণেরও প্রতীক। আল্লাহতায়ালা “আশরাফুল মাখলুকাত” বা সৃষ্টির সেরা জীবরূপে মানুষ সৃষ্টি করে ভূ-পৃষ্ঠের প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ হিসেবে ফলবান বৃক্ষ রাজি ও সবুজ বনভূমি দ্বারা একে সুশোভিত করেছে। আবার গাছ দ্বারা ভূ-মণ্ডল ও পরিবেশ প্রকৃতির ভারসাম্য ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ।


চৌদ্দশত বছর পূর্বেই আল্লাহতায়ালা ওহি নাযিল করে রাসূল (সাঃ)-এর মাধ্যমে গোটা জাতিকে জানিয়ে দিলেন গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে। এই মর্মে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, “আমি ভূমিতে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে নয়নাভিরাম সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদগত করেছি। আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং এর দ্বারা উদ্যান ও পরিপক্ষ শস্যরাজি উদগত করি” (সূরা কাফ আয়াত-৭ ও ৯)


আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য গাছ অথবা গাছের বীজ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সেই বীজ বপন করে চারা গাছ উৎপাদন করে। মানুষ যেহেতু বৃক্ষরোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে গাছকে বড় করে তোলে, তাই গাছের ওপর মানুষের সীমিত ভোগাধিকার জন্মে। কারও জমিতে বা বনভূমিতে বৃক্ষ জন্মালে সেই গাছপালা থেকে সবাই যাবতীয় সুবিধা নিতে পারবে এবং যে কোনো প্রয়োজনে গাছ ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলাম কাউকে অকারণে ফলবান বৃক্ষ নিধন বা কর্তনের অনুমতি দেয় না। কারণ এতে অন্যরা গাছের নিয়ামত লাভে বঞ্চিত হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলে দিয়েছেন­ তিনিই আল্লাহতায়ালা নানা প্রকার লতাগুল্ম ও বাগান সৃষ্টি করেছেন। খেঁজুর বীতি সৃষ্টি করেছেন। শস্য উৎপাদন করেছেন। তা থেকে নানা প্রকার খাদ্য সংগৃহিত হয়। যাইতুন ও ডালিম বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন। এদের মধ্যে বাহ্যিক সাদৃশ্য থাকলেও স্বাদ বিভিন্ন এগুলোর ফল খাও যখন ফলবান হয় এবং ফসল কাটার সময় আল্লাহর হক আদায় কর আর সীমা অতিক্রম করোনা। কারণ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। ( সূরা আনআম- আয়াত ঃ ১৪১) হাদিস শরীফে এর গুরুত্ব দিয়ে রাসূল (সাঃ) বলেছেন­ যে ব্যক্তি অকারণে একটি কুলগাছ কাটবে আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।

রাসূল (সাঃ) গাছ সংরক্ষণের উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মক্কা মোকাররমা ও মদীনার বিশেষ এলাকাকে সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করেছিলেন। ঐ সব এলাকার গাছ কাটা এবং সেখানে বন্য পশু-পাখি শিকার করা আজও নিষিদ্ধ। ইসলামে বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোর উৎসাহিত হওয়ার জন্য রাসূল (সাঃ) বৃক্ষ রোপণকে সদকায়ে জারিয়া বা অবিরত ফলরূপে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন­ যখনই কোন মুসলিম গাছ লাগায় বা শস্য বুনে এবং এ থেকে মানুষ, পশু-পাখি তাদের আহার্য গ্রহণ করে তখন তার পক্ষে একটি সদকা (দান) হিসেবে পরিগণিত হয়। ( মুসলিম শরীফ দ্বিতীয় খণ্ড- পৃষ্ঠা-১৫)

অন্য হাদীসে হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন­ গাছ হতে যা চুরি হয়ে যায় তাও তার পক্ষে একটি সদকা হিসেবে পরিগণিত হয়। (মুসলিম)

অন্যত্র নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যখন কোন মানুষ মৃত্যু বরণ করে তার সব আমলের দরজা ব হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল ব্যতীত। আর তা হচ্ছে 
১. যদি সে কোনো সদকায়ে জারিয়া রেখে যায়। 
২. এমন জ্ঞান রেখে যায় যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। 
৩. কোন সৎ সন্তান রেখে যায় যা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। 
এতে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বৃক্ষ রোপণই সবচেয়ে বেশি উপকারী। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বর্তমান পরিবেশ বিজ্ঞানীরা একমত হয়েছেন যে, গাছ আমাদের ও সৃষ্টি কুলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা কার্বনডাই অক্সাইড ছাড়ি গাছ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি। 

প্রসঙ্গে হজরত আবু দারদার (রা.) একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদা হজরত আবু দারদা (রা.) দামেস্কে একটি বৃক্ষরোপণ করেছিলেন। এমন সময় একটি লোক তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে হজরত আবু দারদাকে (রা.) অত্যন্ত মনোনিবেশ সহকারে বৃক্ষরোপণ করতে দেখে একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, আপনি রাসূলুল্লাহর (সা.) একজন প্রিয় সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও কাজটি করছেন? হজরত আবু দারদা (রা.) উত্তরে বললেন, আপনি এমনটি বলবেন না। আমি রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষ চারা লাগায়, অতঃপর তা থেকে কোনো ফল মানুষ পাখি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখন তার জন্য একটি সদকা হিসেবে লেখা হয়।এমনকি মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধে রওনা হওয়ার সময় রাসূল (সা.)সহ পরবর্তী সব খলিফা কঠোরভাবে সৈন্যদের নির্দেশ দিতেন তারা যেন বিজিতদের কোনো গাছপালা বা শস্যক্ষেত্র ধ্বংস না করে।

ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সৃষ্টির সবকিছুর উপর সমানভাবে মায়া-মমতা প্রদর্শন করেছেন। গাছের প্রতি মায়া ছিল তার অফুরন্ত। নবী (সাঃ) বলেছেন, বৃক্ষের সঙ্গে আমাদের আন্তরিকভাবে ব্যবহার করা উচিত গাছের পাতা ছিড়লে গাছ ব্যথা পায়না আসলে তা নয় কারণ গাছের জীবন আছে এবং পাতা ছিঁড়লে কষ্ট পায়। নবীজী বলেছেন তোমরা অকারণে বৃক্ষ ছেদন অথবা কর্তন করবে না রাসূল (সাঃ) নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেছেন। তাই বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যদিক গুরুত্বারোপ করে রাসূল (সাঃ) বলেছেন যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তে তোমাদের কারও হাতে একটি চারা গাছ থাকে তাহলে সে যেন সেই বিপদ সংকুল মহূর্তেও তা রোপণ করে যায় (আদাবুল মুফরাদ)। আল্লাহ তায়ালার হুকুম, রাসূল (সাঃ)-এর বাণী ও ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য জনগণের সামনে তুলে ধরে সবুজায়ন আন্দোলনের প্রসার, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। 
Source: www.somewhereinblog.net

পরিবেশ সংরক্ষণে গাছ

“উদ্যানের মাঝে স্রষ্টার নৈকট্য যত, ধরনীর মাঝে আর কোথা নেই তত”

বাগান সৃষ্টি কারীর উপর স্রষ্টার  সব চেয়ে বেশি খুশি হন। মানুষ পৃথিবীতে আসার পূর্বেই বৃক্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। এই মানুষ জন্মাবার পরপরই বৃক্ষের কাছ থেকে ক্ষুধা নিবৃত্তির উপাদান খুঁজে পেয়েছিল। গাছ পালা দিয়েই তৈরী করতে শুরু করেছিল আবাসনের। মানুষের জীবন ধারনের জন্য আদিকাল থেকেই মানুষ ও প্রাণী নির্ভরহয়ে পড়ে বৃক্ষরাজির উপর। কিন্তু জন সংখা বৃদ্ধির ফলে অরণ্য ভূমি ও বিভিন্ন গাছ পালার পরিমান কমতে শুরু করেছে, হারিয়ে যাচ্ছে বহুপ্রজাতীর বৃক্ষ। আবার মানুষ আদি কাল থেকেই তাদের প্রয়োজনেই  প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গাছ পালা রোপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। যুগে যুগে মানুষ গাছ পালা নির্ভর জীবন যাপন করে  থাকলেও পূর্বের তুলনায় গাছ পালা  শুধু কমেই  যাচ্ছে । আধুনিক সভ্যতা ও লোক সংখা বৃদ্ধির ফলে চাপ পড়েছে বৃক্ষের উপর। আর সেটা ফল জাতীয় হউক আর কাঠ জাতীয়ই  হউক। একটি দেশের  প্রয়োজনের তুলনাই  বৃক্ষরাজি কম থাকলে শুরু হয় অনাবৃষ্টি, প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ পরিবেশ বির্পযয়। আর কমতে থাকে উদ্ভিদ পুষ্টির পরিমান। তাই মানুষ ও প্রানিকূল ভোগতে থাকে পুষ্টি হীনতা তথা খাদ্য ঘাটতির অভিষাপে। এ অনুভূতি  অনুভবের সাথে সাথেই মানুষ বৃক্ষ রোপনের  উপর গুরুত্ব দিতে  চেষ্টা করছে অরণ্য সৃষ্টির। শুরু করছে উন্নত পদ্ধতিতে  উন্নত ফল চাষের অভিযান। জ্ঞানী গুনি ব্যক্তিরা সাধারন মানুষকে বুঝাতে চেষ্টা করছে বৃক্ষের গুরুত্ব  অনুভূতিতে আনার। মানুষ ও প্রাণীকূলের জীবন যাত্রার সহায়ক বৃক্ষ ও বৃক্ষের ফল যেন জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত ও সহঅবস্থান, একে অপরের বন্ধু। মানুষ ও প্রাণীকূল যে কার্বন-ডাই অক্সাইড ছেড়ে দিচ্ছে বৃক্ষ রাজি তা সানন্দে গ্রহন করছে তার প্রান বাঁচানোর জন্য। আবার গাছ যে অক্সিজেন, ফল ও কাঠের যোগান দিচ্ছে সে অক্সিজেন কাজে লাগছে মানুষ ও প্রানি কূলের জন্য। প্রাণীকূল বাঁচার তাগিদে ও মানুষের জীবন মান  উন্নয়নের জন্য বৃক্ষ রোপন তথা ফল বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
পরিবেশ সংরক্ষনে গাছের ভূমিকা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট। বায়ু মন্ডলের কার্বন-ডাই অক্সাইড  ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষায় যে পরিমান বৃক্ষরাজি থাকা দরকার  সে পরিমান না থাকায় বায়ু মন্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমান ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৫০ সনে বায়ু মন্ডলে নির্গত কার্বন-ডাই অক্সাইড এর পরিমান ছিল ২০০ কোটি মেঃ টন। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি মেঃ টনে। ফলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের সম্ভাবনাও বাড়ছে প্রতিদিন। বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইড এর পরিমান বেড়ে গেলে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে  পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। মরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে। ফলে সমুদ্র উপকূলীয় বহু অঞ্চল  পানির নিচে তলিয়ে যাবে। যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে এখনই।
সোভিয়েত ইউনিয়নের এক সমীক্ষায় জানা যায় এক হেক্টর বন ১ বৎসরে  প্রায় ৪ মেঃ টন কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাস টেনে নেয় এবং ২টন অক্সিজেন গ্যাস ছেড়ে দেয়। যা প্রাণী কুল গ্রহন করছে প্রতি মুহূর্তেই। অমূল্য এ অক্সিজেন যদি মানুষ ও প্রাণীর জন্য কেনার প্রয়োজন  হতো  তা হয়ত সম্ভব হতোনা। যানবাহন বা কোন প্রকার শব্দ দূষনের ৮৫% গাছপালা শোষণ করে। শব্দ দূষণ থেকেই আমাদের রক্ষা করে  এই  গাছ পালা। তার মধ্যে নিম গাছের শোষন ক্ষমতাই  বেশি। একটি পূর্ণ বয়স্ক  আম বা কাঠাল গাছ  গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে ১০০ গ্যালনের মত পানি বাষ্পিভূত করতে পারে। ভবিষ্যতে  গাছপালা র্কতৃক প্রদত্ত্ব অক্সিজেন প্রায় ৯০% কারখানা দ্বারা শেষ হয়ে যাবে। মানুষের ভাগ্যে থাকবে মাত্র ১০%। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ অপরির্হায। পৃথিবীতে ২৫ লক্ষ ধরনের জীবের প্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে তন্মধ্যে ২.৫ লক্ষ হচ্ছে উদ্ভিদ। কিন্তু এক সমীক্ষায় জানা যায় বিশ্বে প্রতি বৎসর ৫০০টি প্রতিদিন ৩৭ টি এবং প্রতি ঘন্টায় ৮টি করে প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে । একটি দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে  ২৫% বনায়ন প্রয়োজন কিন্তু কারও কারও মতে বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র ১০-১২ ভাগ। বাংলাদেশে ২ মিলিয়ন হেঃ বনভূমি রয়েছে কিন্তু থাকা দরকার ছিল ৩.৮ মিলিয়ন হেঃ যা তুলনায় অনেক কম। পরিবেশ সংরক্ষণে গাছের গুরুত্বপূর্ন অবদান বিবেচনা করেই বাংলাদেশে সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু কর্মসূচী গ্রহন করছে। যেমন সামাজিক বনায়ন কর্মসূচী, বসতবাড়ি বনায়ন কর্মসূচী, বৃক্ষরোপন অভিযান, ফলদ, বনজ ও ভেষজ বক্ষরোপন কর্মসূচী, ফলদ বৃক্ষ মেলা ইত্যাদি।
ফলদ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতিবৎসর জাতীয় পর্যায়ে  জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফলদ বৃক্ষ মেলা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী উদযাপন করে থাকে। বৃক্ষ রোপনের মধ্যে ফল ও ভেষজ  বৃক্ষ রোপনের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে; কারন  ফল ও কাঠ উভয় পাওয়া যায় ফল বৃক্ষ থেকে। তাছাড়া মানুষ ও প্রাণীকূলের খাদ্য, পুষ্টি ও ভেষজ চাহিদা পূরণ করে থাকে ফলদ ও ভেষজ উদ্ভিদ। তাই প্রাণী কূলের সাথে সাথে উদ্ভিদ জগৎকে  গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের বাঁচার তাগিদেই। কবির ভাষায় বলতে হয়- “মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে যায় একথা ও রাখিতে হবে মনে পশু পাখি তার পর নয় তরুরাও বাঁচিতে চায়।”
তরুদের বাঁচানো, সংরক্ষণ, বংশ বিস্তার, রূপচর্চা, পরিচর্যা নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও অধিক ফলনশীল ফল বৃক্ষের গবেষণা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মানুষের মাঝে আজও কিছুটা নিষ্ঠুরতার মনোবৃত্তি দেখতে পাওয়া যায়। বৃক্ষ প্রেমিক কবি বলেছিলেন-“তরু তলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর, উঠিবার কালে সেথা ডাল ভেঙ্গে লয়  অকাতরে তরুগণ কিছু নাহি কয়। দুর্লভ মানব জনম পেয়েছে যখন তরুর আর্দশ কর জীবনে গ্রহন।”
প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বৃক্ষ প্রেমিক লোকদের এগিয়ে আসার ও সামাজিক ভাবে ফলবৃক্ষ রোপনের গুরুত্ব সবাইকে বুঝাবার। বৃক্ষ আমাদেরকে অক্সিজেন দিয়ে, ফল দিয়ে, কাঠদিয়ে জ্বালানি দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ করে সহযোগীতা করে। আর আমরা নির্বিচারে সেই বৃক্ষ ধবংস করি। অযতেœ বৃক্ষকে র্দুবল করে তুলি। পরিচর্যা তো দূরের কথা ফল পাওয়ার পরও গাছের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিনা । এমনকি কত মৃত বৃক্ষ রাস্তার ধারে অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের সৎকারের বা সরানোর কথা ভাবিনা। গ্রাম, বাজার শহরে মৃত যে সকল বৃক্ষরাজী রয়েছে যেকোন সময় মৃত বৃক্ষ মানুষ ও প্রাণী কুলের ক্ষতি করতে পারে। তাছাড়া মৃত বৃক্ষ দিনে দিনে হারিয়ে ফেলে তার অর্থনৈতিক মূল্যবোধ। ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে বৃক্ষের ডালপালা অবশেষে ধবংস স্তুুপে পরিনত হয় দেহাবশেষ। আর মৃত বৃক্ষ নবাগতের জন্য স্থান ছেড়ে দিতে পারছেনা মানুষের অবহেলার জন্য। মৃতের সৎকার মানুষ ও প্রাণী কুলে থাকলেও বৃক্ষরাজীর ব্যাপারে আমরা আজও তৎপর নই। বৃক্ষকে খেতে দিতে হয়, বৃক্ষের জীবন আছে, প্রজনন আছে, বংশবিস্তার আছে, ইহা বীজ জন্ম দেয়, পৃথিবীতে তার বংশধর রেখে যেতে চায় এবং সুন্দর ভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থেকে মানুষও প্রাণী কুলের সেবা করতে চায়। আমরা শুধু ফল চাই কিন্তু গাছকে তার প্রয়োজনীয় খাবার জোগান দেবার কথা অনেকেই ভাবতে শিখিনাই। গাছ প্রকৃতির সৌন্দর্যর প্রতীক, তাই বলতে হয়- “বাড়ির শোভা বাগবাগিচা, রাস্তার শোভা গাছ। রাজার শোভা দেশের প্রজা পানির শোভা মাছ” তাই আমাদের বেশী বেশী বৃক্ষ প্রেমিক হওয়া দরকার, বৃক্ষকে ভালবাসা দরকার। বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ফলদ বৃক্ষমেলার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। গাছের প্রতি গুরুত্ব দিতে বিশেষ করে ফল গাছের প্রতি, তন্মধ্যে আবার দেশী ফল। দেশী ফল গাছের রোপণ ও যত্নের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিবেশনায় যেমন- গান, কবিতা, নাটক- নাটিকা ও বাস্তব প্রদর্শনীর মাধ্যমে সবাইকে সজাগ করা হচ্ছে। উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে সামাজিক ভাবে সবাইকে। যেমন বলা হচ্ছে- “ফল খাই বল পাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই” তেমনি এ বৎসর ফলদ বৃক্ষ মেলায় প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- “স্বাস্থ্য পুষ্টি অর্থ চান, ফলের চারা বেশী লাগান” ফল গাছ রোপণে কেন বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়- “ফল গাছ মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়, খাদ্য ঘাটতির সহায়তা করে পুষ্টির  অভাব মিটায়, জ্বালানী কাঠ আসবাবপত্রে আয় বৃদ্ধি হয়, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে রোধ করে মাটির ক্ষয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে সুন্দর পরিবেশ গড়ে, অক্সিজেন, ছায়া, ঔষধ দিয়ে জীবন রক্ষা করে। বেকারত্ব দুর করে আর মানুষের আয় বৃদ্ধি হয়, ফল গাছ একটি জীবন্ত বীমা নেই কোন সংশয়” কাজেই ফলসহ বিভিন্ন গাছের প্রতি আমাদের যত্নবান হতে হবে। কেননা- যত্নে রত্ন মিলে। তাই- “গাছ লাগিয়ে যত্ন কর, অল্প দিনে হবে বড়” শুধু তাই নয়- ”গাছ লাগিয়ে বাড়ীর পাশে খাঁচা দিবে গাছে গাছে” তা না হলে আপনার কাঙ্খিত গাছটি অচিরেই ধবংশ হয়ে যাবে যদি আপনি নিজ গাছের প্রতি যত্নবান না হন। আপনার রোপিত গাছের প্রতি আপনি যত্নবান হউন, গাছের রূপ চর্চা করুন, সুষম খাবার পরিবেশন করুন শত্র“র কবল থেকে গাছকে রক্ষা করুন। গাছও আপনার প্রতি সদয় হবে ফল দিবে ফুল দিবে, পরিশেষে আপনার জন্য জীবন বিলিয়ে  দিবে তার জীবন সায়াহ্নে। এটাই গাছের ধর্ম। গাছ কভু নাহি খায় নিজ নিজ ফল। তাই আপনি পরিকল্পিতভাবে ফল গাছ রোপণ করে আপনি নিজে খান অপরকে খাওয়ান আপনার রোপিত গাছের ফল। আর সেখানে আপনি পাবেন তৃপ্তি পরম আনন্দ আর হবেন সৃষ্টি ধর্ম রক্ষার এক পরম বন্ধু। আপনার রোপিত বৃক্ষের ছায়ায় যদি কোন মানুষ, প্রাণী একদণ্ড বসেও শান্তি পায় আপনার বৃক্ষের ফল যদি কোন প্রাণী বা মানুষ খায় তাহলে আপনি পাবেন তার বদলা “বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমেই বয়ে আসুক আপনার জীবনের সু-ফল” কবির ভাষায় আবার বলছি- “বন বিজন পাখীর কুজন সুন্দর পরিবেশ আসুন গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই গড়ি সুন্দর বাংলাদেশ” শুধু একটি আবেদন- ”কাঠের চেয়ে ফল বেশী, ফল গাছ লাগান দেশবাসী” ফলদ বৃক্ষমেলা ও ফল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী আমাদের বৃক্ষপ্রেমের প্রেরণা এবং প্রয়োজনীয় ফল বৃক্ষরোপণে সকলকে উদ্ভুদ্ধ করবে। আ্পনি ফলবৃক্ষ, কাঠবৃক্ষ, ঔষধিবৃক্ষ যাই লাগান তা আপনার সঞ্চয় ও ভবিষ্যত বংশধরদের আগাম সম্পদ হিসাবে কাজে লাগবে কেননা- “বাপে লাগালে সন্তানে পাবে সন্তানের সাথেই গাছ লাগাবে” শুধু তাই নয় আপনি ও দেশবাসী উপকৃত হবে আপনার বৃক্ষরোপণে। “বসত বাড়ীর আশেপাশে যদি থাকে গাছ ফল কাঠ অর্থ পাবে ছায়া পাবে বার মাস”
গাছ লাগানো ছোয়াবের কাজ। গাছ রোপণ একটি পূণ্য কর্ম। পৌরানিক লোকেরা বিভিন্ন গাছকে চন্ডিকা শক্তিরূপে পূজা দিত। যেমন- কদলী-আয়ুবৃদ্ধি শক্তি, কচু- কালিকা শক্তি, হলুদ- দুর্গা শক্তি, জয়ন্তি- কাত্তিকা শক্তি, অশোক- শোক রহিতা শক্তি, বিল্ব- শিবা শক্তি, দাড়িম্ব- রক্ত দন্তিকা, মান- চামুন্ডা শক্তি, ধান-লক্ষ্রী শক্তি। কাজেই-“বৃক্ষ নিধন আর নয়, দেশকে কর বৃক্ষময়”